কিছু ভালোবাসার নাম হয় না
.
অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতেছি,এই সময় টা বাস পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কষ্ট করে একটা লোকাস বাসেই উঠলাম, সারাদিন অফিস শেষে এই সময় টা খুব খারাপ লাগে,মন মেজাজ কোন টাই ভালো থাকে না, একটা সিট ই খালি আছে তাও আবার অচেনা এক মেয়ে, ক্লান্ত শরীরে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না, খালি সিটে বসতেই মেয়ে টা যেভাবে আড় চোখে তাকালো, মেজাজ টা আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো, কি যে মনে করে মানুষ, আল্লাহ্ মালুম!!! চুপ চাপ বসে আছি বোকার মতো করে, আর লোকাল বাসের একটু পর পর থামানো, আর সেই রাস্তার বিখ্যাত সিগনালের জ্যাম কি অশান্তি, মেজাজ এখন আর খারাপ হয় না, অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রতিদিনের অভিজ্ঞাতায়,মেয়েটার হেড ফোনে এতো ভলিউম দিয়ে গান শুনছে যে বাহির দেখা শুনা যাচ্ছে, বুঝা যাচ্ছিলো তাহসানের বৃত্ত আমি গান টা, চোখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে শুনতে ছিলাম, কখন জানি চোখ বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো, বাসের হেলপারের ডাকে ঘুম ভাঙলো, মামা!!! ভাড়া টা দেন কই যাইবেন? থতমত খেয়ে উঠলাম, পাশের মেয়েটা আমাকে দেখে খিলখিল করে হাসতে লাগলো, ভাড়ায় টা দিলাম, মেয়েটা আমার দিকে তাকাচ্ছে আর এখনো হেসে যাচ্ছে, অচেনা মেয়ে কিছু তো আর বলতে পারিনা, হেসেই যাচ্ছিলো বাধ্য হয়ে বলেই ফেললাম মানুষ যদি মুখের শাটার টা বন্ধ করতো খুব ভালো লাগতো। আমার কথা শুনে মেয়েটা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো,
এই যে মিঃ কি বললেন? মুখের শাটার মানে?
-আমি এমন ভাব করলাম যেনোও তা কে কিছু বলিই নাই
কই না তো, আপনাকে কিছু বলি নাই তো
:-আপনার কি মনে হয় আমি কানে কম শুনি!!
-না তো তা মনে হবে কেনো
:-কি বলছেন আবার বলেন_
-বললাম তাহসানের গান টা অনেক সুন্দর ছিলো
.
মেয়েটার রাগ এক নিমিষে শেষ হয়ে গেলো
:-ওয়াও, আপনি ও তাহসানের গান শুনেন
-জ্বী হ্যা মাঝে মাঝে শুনি
:- জানেন আমি তাহসানের অনেক ভক্ত, ওকে আমার অনেক ভালো লাগে সব দিক থেকেই পারফেক্ট...
কি বলব বুঝতেছিলাম না, হাসব না কাঁদবো মেয়েটার কথা শুনে, একটা মানুষের জন্য প্রায় মেয়েরাই পাগল!!
দেশে কি আর কোন ছেলে শিল্পি নাই?
.
:- এই যে মিঃ কিছু বললেন না তো চুপ হয়ে গেলেন
- আমার নাম আরিয়ান
:ওয়াও অনেক কিউট নাম তো, আমি নাজীফা
মেয়েটার তার মনে হয় কিছু টারর ছেঁড়া আছে, তা না হলে এই ভাবে অচেনা একটা ছেলের এই ভাবে নিজ ইচ্ছায় নিজ থেকে কথা বলে~
আবার খিলখিল করে মেয়েটা হেসে উঠলো, তাকাতেই বুঝালাম ফেসবুকের কিছু দেখে এই ভাবে হাসছে
:-এই যে মিঃ আরিয়াব আমি নাজীফা আমার রিয়াল নাম, ভার্চুয়ালে আমাকে অন্য নামে চিনে সবাই, আমার অনেক ফ্যান ফলোয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি.........বুঝতে পারছিলাম সব তার ই ছেঁড়া।
-ভালো তো
:-শুধু ভালো? অনেক ভালো, আপনার ফেইসবুক আইডি আছে?
-হ্যা আছে, কেনো বলেন তো?
:-বের করেন
-মানে কেনো?
:-আজিব!! বের করলে কি আমি নিয়ে যাবো নাকি?
- আরে না আমি তা বলি নেই
পকেট থেকে মোবাইল টা বের করলাম, লগিন করলাম,
মুন্তাহি আচল সিগ্ধা (রোমান্টিক বাঘিনী) নামে সার্চ করতে বললো নাজীফা
সার্চ করতেই একজনের নাম ই আসে সে আমার ফ্রেন্ড,
বললাম পাচ্ছি না,
মেয়েটা আমার আইডি নাম জানতে চাইলো বললাম..
সার্চ দিয়ে বললো এই নামে তো অনেক আইডি আছে, আপনার প্রোফাইল পিক আছে?
-না নেই, তবে একটা কালো কপালে হাত দেয়া পিক আছে
:-বুঝলাম, কভারে হুমায়ূন স্যারের গান লেখা যদি মন
ফিরে এসো এক বরষায়?
-হ্যা
:- অনেক সুন্দর লেখালেখি করেন?
-না তো
:-পাবনার মেন্টাল?
-মানে
:- ভাব অনেক বেশি? মেসেজ দিকে রিপ্লে করেন না, কাজ পাগল, ফুল মেন্টাল,
-এই যে? কি বলছেন এই সব, এসব কি কারোর প্রোফাইলে লেখা থাকে?
:-না থাকে না, তবে আমি জানি, হারামী
- হারামী মানে?
:- পিচ্ছু হারামী আর তুই বড় হারামী বলেই খিল খিল করে আবার হাসি, বাসের লোকজন সব হা করে দেখছে
-মানে তুই পিচ্ছু?
:-হা হা হা করেই হেসেই যাচ্ছে........
.
এ হলো রোমান্টিক বাঘিনী, ভার্চুয়ালের অনেক ফেমাস মুখ, বড় ২ টা পেইজের রাইটার, আর অনেক ছেলের ক্রাশ আমার সাথে পরিচয় পেইজের গ্রুপে, একটা পোষ্ট নিয়েই আমাদের তর্ক বিবর্ত, তারপর ইনবক্সে সরি, তারপর আস্তে আস্তে কথা, পরিচয় .... পিচ্ছু হারামী নামে ডাকতাম আর ও আমাকে বড় হারামী নামেই ডাকতো, খুব চঞ্চল একটা মেয়ে, সারাদিন বক বক, ফেইসবুক, আর আড্ডা!! বাবা মায়ের একমাত্র আদরের কন্যা, কেউ কখনো কারর পিক দেখা হয় নাই, আজ এভাবে দেখা হবে কখনো কল্পনাই করতে পারি নাই,
:-কি রে কোথায় হারিয়ে গেলি? কি ভাবছিস
-না কিছু ভাবছি না, তুই লোকাল বাসে কেন? তোর বাপেরই তো গাড়ী আছে,
:-হুম আছে তো কি হইছে তাই বলে আমি লোকাল বাসে উঠতে পারব কোন হাদিসে আছে রে?
-না কোনও হাদিস এ নাই, বড় লোকের বিরাট কারবার রে আমি ছুড মানুষ কম বুঝি
:- দেখ!! বড়লোক বড়লোক করবি না, তোকে একদিন না করছি না,
কথা বলতে বলতে বাস এক সময় কল্যাণপুর চলে আসলো, আমি বিদায় নিয়ে চলে আসলাম রাতে ক


0 comments:
Post a Comment