Wednesday, August 8, 2018

কবর বলতে কি বুঝায়?
August 08, 2018

কবর বলতে কি বুঝায়?


কবর বলতে কি বুঝায়?
কবর সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে, মৃত্যুর পর মানুষের রুহ বা আত্মা কোথায় যায় এবং কোথায় অবস্থান করে। কিয়ামত সংঘটিত হবার পরে বিচার শেষে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু এর পূর্বে সুদীর্ঘকাল মানুষের আত্মা কোথায় অবস্থান করবে? কোরআন-হাদীসে এর স্পষ্ট জবাব রয়েছে। মৃত্যুর পরের সময়টিকে যদিও পরকালের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, তবুও কোরআন-হাদীস মৃত্যু ও বিচার দিনের মধ্যবর্তী সময়কে আলমে বরযখ নামে অভিহিত করেছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী হবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এবং তাদের পেছনে রয়েছে বরযখ- যার সময়কাল হচ্ছে সেদিন পর্যন্ত যেদিন তাদেরকে পুনর্জীবিত ও পুনরুত্থিত করা হবে। (সূরা মুমিনুন-১০০)
এই আয়াতে যে বরযখ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এর অর্থ হলো যবনিকা পর্দা। অর্থাৎ পর্দায় আবৃত একটি জগৎ-  যেখানে মৃত্যুর পর থেকে আখিরাতের পূর্ব পর্যন্ত মানুষের রুহ্‌ অবস্থান করবে। ইসলাম পাঁচটি জগতের ধারণা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। প্রথম জগৎ হলো, রুহ্‌ বা আত্মার জগৎ-  যাকে আলমে আরওয়াহ্‌ বলা হয়েছে। দ্বিতীয় জগৎ হলো মাতৃগর্ভ বা আলমে রেহেম। তৃতীয় জগৎ হলো আলমে আজসাম বা বস্তুজগৎ-  অর্থাৎ এই পৃথিবী। চতুর্থ জগৎ হলো আলমে বরযাখ বা মৃত্যুর পর থেকে আখিরাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যে সুক্ষ্ম জগৎ রয়েছে, যেখানে মানুষের আত্মা অবস্থান করছে। পঞ্চম জগৎ হলো আলমে আখিরাত বা পুনরুত্থানের পরে অনন্তকালের জগৎ।
এ কথা স্পষ্ট মনে রাখতে হবে যে, রুহ বা আত্মার কখনো মৃত্যু হয় না। মৃত্যুর পর এই পৃথিবী থেকে আত্মা আলমে বরযখে স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ আত্মা দেহ ত্যাগ করে মাত্র, তার মৃত্যু হয় না। আলমে বরযখের বিশেষভাবে নির্দিষ্ট যে অংশে আত্মা অবস্থান করে সে বিশেষ অংশের নামই হলো কবর।
বাহ্যিক দৃষ্টিতে কবর একটি মাটির গর্ত মাত্র যার মধ্যে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেহ পচে গলে যায়। মাটি এই দেহ খেয়ে নিঃশেষ করে দেয়। কিন্তু প্রকৃত কবর এক অদৃশ্য সুক্ষ্ম জগৎ। যা মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি ও কল্পনারও অতীত। প্রকৃত ব্যাপার হলো, মৃত্যুর পর মানুষ কবরস্থ হোক, চিতায় জ্বালিয়ে দেয়া হোক, বন্য জন্তুর পেটে যাক অথবা পানিতে ডুবে মাছ বা পানির অন্য কোনো প্রাণীর পেটে যাক, সেটা ধর্তব্য বিষয় নয়। মানুষের দেহচ্যুত আত্মাকে যে স্থানে রাখা হবে সেটাই তার কবর। অর্থাৎ মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের পূর্ব পর্যন্ত যে অদৃশ্য জগৎ রয়েছে, সেই জগতকেই আলমে বরযখ বলা হয় এবং আলমে বরযখের নির্দিষ্ট অংশ, যেখানে মানুষের আত্মাকে রাখা হয়- সেটাকেই কবর বলা হয়। মাটির গর্ত কবর নয়-  আলমে বরযখে দুটো স্থানে মানুষের আত্মাকে রাখা হবে। একটি স্থানের নাম হলো ইল্লিউন আর আরেকটি স্থানের নাম হলো সিজ্জীন। ইল্লিউন হলো মেহমানখানা, অর্থাৎ পৃথিবীতে যারা মহান আল্লাহর বিধান অনুসারে নিজেদের জীবন পরিচালিত করেছে, তারাই কেবল ঐ মেহমানখানাই স্থান পাবে। আর যারা পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান অমান্য করেছে, নিজের খেয়াল-খুশী অনুসারে চলেছে, মানুষের বানানো আইন-কানুন অনুসারে জীবন চালিয়েছে, তারা স্থান পাবে সিজ্জীনে। সিজ্জীন হলো কারাগার। আল্লাহর কাছে যারা আসামী হিসেবে পরিগণিত হবে, তারা কারাগারে অবস্থান করবে।

0 comments:

Post a Comment