"""ভাই বোনের ভালবাসা"""
- এই ভাইয়া দাঁড়া! দাঁড়া বলছি দৌড় দিবি না।
- না না দাঁড়াব না, দাঁড়িয়ে থেকে মার খেতে পারব না।
- দেখ বেশী ভাল হচ্ছে না, একবার ধরতে পারলে শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না, বুঝিস!
- হি হি হি বুঝছি। তুমি দিবে শাস্তি! আমাকে? দাও না! না করছে কে? আচ্ছা আমাকে কি শাস্তি দিবে? বল না!
- বলব না, বললে মজা থাকবে না।আগে ধরি তারপর দেখবি!
- না না আগে বল তারপর ধরা দিব।
•
এই হল তাওহীদ এই হল তাওহীদের বোন মাওয়া।এই দৌড়া-দৌড়িটা তাদের রুটিনের একটা অংশ। তাওহীদকে সকালে নাস্তা করাতে আসলেই তাওহীদের দৌড়া-দৌড়ি শুরু হয়ে যায়।আর তার বোন তার পিছে পিছে দৌড়ে আর এসব কথা বলে।
তাওহীদ একবার সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে আবার সিঁড়ি বেয়ে নেমে বাসার বাগানে দৌড়-দৌড়ি করে।তার বোন তাকে ধরে ভালবাসার শাস্তি হিসেবে কপালে চুমু দিয়ে তারপর নাস্তা খাইয়ে দিত।তাওহীদ খাওয়া শেষ করে সেও তার বোনের কপালে চুমু দিয়ে তারপর বোনকে জড়িয়ে ধরত।
•
কিন্তু আজ একটু বেশীই দুষ্টামি করতেছে, তাই তার বোন একটু রাগ দেখিয়ে ঐ কথা গুলো বলে।সে থামে না দেখে ক্লান্ত সুরে বলে
- এই ভাইয়া দাঁড়া বলছি দাঁড়া!(দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে গেছে আর বড় ভাই নাই তাই তাকেই ভাইয়া বলে ডাকে)
কিন্তু তাওহীদ বোনের কথা না শুনে দৌড়াতেই থাকে।সে বলে
- আর একটু দৌড়িয়ে পেটটা আরও খালি করে নেই। নাস্তার সাথে তো মার ও খেতে হবে! তাই না?
সেও দৌড়াচ্ছে তার বোন ও দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ তার বোন পা পিচলে পড়ে গিয়ে ব্যথায় চিৎকার করে উঠে।বোনের চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে বোনকে ধরে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে
- আপু! এই আপু! বেশী ব্যথা পেয়েছ? কষ্ট পেয়েছ?(অপরাধী চোখে বলে)
- এই ভাইয়া! কাঁদছিস কেন? আমি তেমন ব্যথা পায়নি কষ্ট পাইনি; শুধু একটু ব্যথা পেয়েছি।
তারপর বোনকে ধরে রুমে নিয়ে যায় ।রুমে যাওয়ার পর ভাইকে কাছে এনে খাইয়ে দিয়ে শাস্তি হিসেবে কপালে চুমু দিয়ে দেয়।তার ভাই ও তার কপালে ভালবাসার পরশ এঁকে দেয়।দূর থেকে তাদের ভালবাসা দেখে তাদের দাদুর চোখে জল এসে পড়ে।
•
তাওহীদের জন্মের সময় তাওহীদের মা মারা যায়।কিছুদিন পর রোড এক্সিডেন্টে তার বাবাও মারা যায়।তার কিছুদিন পর ছেলে ও ছেলের বউ এর সুগে তার দাদী ও চলে যায়।তাওহীদের আপন বলতে থাকে, তার বোন ও তার দাদা।তাদের দাদা সবাইকে হারিয়ে তাদেরকে নিয়ে আবার নতুন করে জীবন শুরু করে।
দুই ভাই-বোনকে নিয়ে তাদের দাদার ভাল মন্দে দিন গুলি চলে যাচ্ছিল।কিন্তু সমস্যা হত তাওহীদকে নিয়ে।সে অনেক কাঁদত তার কান্না তারা সহজে থামাতে পারত না।তাদের কথা তেমন মানত না।তারপর ধীরে ধীরে তার দাদার কথা না মানলেও তার বোনের কথা মানতে শুরু করে।কিছুদিন পর তার বোনেই তার কাছে নতুন পৃথিবী হয়ে যায়।
সে হাসলে তার বোন হাসত সে কাঁদলে তার বোন ও কাঁদত দুষ্টামি করলে তার বোন ও তার সাথে দুষ্টামি করত। এভাবেই দিন গুলি চলে যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তার কথা-বার্তা, মান-অভিমান, ঝগড়া-ঝাটি ও বাড়তে থাকে।কিছু হলেই রাগ করত কিছু হলেই অভিমান করত, আর তার বোন রাগ-অভিমান ভাংগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।আবার তার বোন তার সাথে রাগ করলে অভিমান করলে কথা বলা বন্ধ করলে সেও রাগ-অভিমান ভাংগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।এভাবেই সুখে-দুঃখে তাদের দিন গুলি চলে যাচ্ছিল।
•
কিছুদিন আগে তার বোনের জ্বর হয়, বোনের অসুখ ও কষ্ট দেখে তার কি কান্না! একটু পর পর বোনকে বলে জ্বর কমেছে কি না! একটু পর পর বলে কেমন লাগছে ভালো লাগছে কি না! আর সাথে সেবা তো আছেই। কখন কি লাগে কখন কি খাবে কখন কি করবে সব দেখাশুনা সে করে ।
কখন কি বোনের লাগবে তার দাদাকে বলে রাখত সব রেডী করে রাখতে।তখন মনে হয়েছিল সে তাদের বড় আর তারা তার ছোট। নিজের হাতে জলপট্টি দেওয়া নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া আরও কত কি! যখন সে বোনের সেবা করত তখন তার বোন এক দৃষ্টতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর মনে মনে বলতো
এমন একটা ভাই ভাগ্যির গুণে পাওয়া যায়।এমন একটা ভাই না থাকলে ভায়ের আদর ভালবাসা কি জিনিস তা কোনোদিন বুঝা যেতো না।তখন অনুভব করে তার চোখের কোণে পানি জমে আছে।এভাবেই সুখের স্মৃতি গুলো বা দুঃখের স্মৃতি গুলোকে সাথী হিসেবে নিয়ে তাদের দিন চলে যেতে থাকে।
•
তারপর তার বোনকে খাটে বসিয়ে রেখে তার দাদাকে ডাকতে থাকে
- দাদা! ও দাদা! দেখে যাও তোমার আদরের নাতী কি করেছে!
তাদের দাদা যে পাশের রুম থেকে সব দেখেছে সেটা তো তারা জানে না। তাদের দাদা রুমে এসে বলে
- বল দাদু ভাই আমার এই নাতী কি করেছে?
- দেখ আমাকে ধরতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছে।
- তা আমি কি করব? তোমাকে ধরতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে, এখন তুমিই ব্যবস্থা করবে।আমি পারব না।
- দেখ বেশী ভালো হবে না কিন্তু। যখন একটা কিছু করে বসব; তখন বুঝবে মজা(ভয় দেখিয়ে বলে)
- আচ্ছা বাবা যা ব্যবস্থা করতেছি তবুও ভয় দেখাস না।(কারণ তার রাগ ও অভিমান বেশী আর কখন কি করে বসে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।তাই যা বলেছে তাই করতে চলে যায়)
- এই তো আমার ভালো দাদা ভাই(চোখ টিপি দিয়ে)
ভায়ের কাজ দেখে ও দাদার ভয় দেখে তার
- না না দাঁড়াব না, দাঁড়িয়ে থেকে মার খেতে পারব না।
- দেখ বেশী ভাল হচ্ছে না, একবার ধরতে পারলে শাস্তি না দিয়ে ছাড়ব না, বুঝিস!
- হি হি হি বুঝছি। তুমি দিবে শাস্তি! আমাকে? দাও না! না করছে কে? আচ্ছা আমাকে কি শাস্তি দিবে? বল না!
- বলব না, বললে মজা থাকবে না।আগে ধরি তারপর দেখবি!
- না না আগে বল তারপর ধরা দিব।
•
এই হল তাওহীদ এই হল তাওহীদের বোন মাওয়া।এই দৌড়া-দৌড়িটা তাদের রুটিনের একটা অংশ। তাওহীদকে সকালে নাস্তা করাতে আসলেই তাওহীদের দৌড়া-দৌড়ি শুরু হয়ে যায়।আর তার বোন তার পিছে পিছে দৌড়ে আর এসব কথা বলে।
তাওহীদ একবার সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে আবার সিঁড়ি বেয়ে নেমে বাসার বাগানে দৌড়-দৌড়ি করে।তার বোন তাকে ধরে ভালবাসার শাস্তি হিসেবে কপালে চুমু দিয়ে তারপর নাস্তা খাইয়ে দিত।তাওহীদ খাওয়া শেষ করে সেও তার বোনের কপালে চুমু দিয়ে তারপর বোনকে জড়িয়ে ধরত।
•
কিন্তু আজ একটু বেশীই দুষ্টামি করতেছে, তাই তার বোন একটু রাগ দেখিয়ে ঐ কথা গুলো বলে।সে থামে না দেখে ক্লান্ত সুরে বলে
- এই ভাইয়া দাঁড়া বলছি দাঁড়া!(দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে গেছে আর বড় ভাই নাই তাই তাকেই ভাইয়া বলে ডাকে)
কিন্তু তাওহীদ বোনের কথা না শুনে দৌড়াতেই থাকে।সে বলে
- আর একটু দৌড়িয়ে পেটটা আরও খালি করে নেই। নাস্তার সাথে তো মার ও খেতে হবে! তাই না?
সেও দৌড়াচ্ছে তার বোন ও দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ তার বোন পা পিচলে পড়ে গিয়ে ব্যথায় চিৎকার করে উঠে।বোনের চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে বোনকে ধরে কাঁদতে থাকে আর বলতে থাকে
- আপু! এই আপু! বেশী ব্যথা পেয়েছ? কষ্ট পেয়েছ?(অপরাধী চোখে বলে)
- এই ভাইয়া! কাঁদছিস কেন? আমি তেমন ব্যথা পায়নি কষ্ট পাইনি; শুধু একটু ব্যথা পেয়েছি।
তারপর বোনকে ধরে রুমে নিয়ে যায় ।রুমে যাওয়ার পর ভাইকে কাছে এনে খাইয়ে দিয়ে শাস্তি হিসেবে কপালে চুমু দিয়ে দেয়।তার ভাই ও তার কপালে ভালবাসার পরশ এঁকে দেয়।দূর থেকে তাদের ভালবাসা দেখে তাদের দাদুর চোখে জল এসে পড়ে।
•
তাওহীদের জন্মের সময় তাওহীদের মা মারা যায়।কিছুদিন পর রোড এক্সিডেন্টে তার বাবাও মারা যায়।তার কিছুদিন পর ছেলে ও ছেলের বউ এর সুগে তার দাদী ও চলে যায়।তাওহীদের আপন বলতে থাকে, তার বোন ও তার দাদা।তাদের দাদা সবাইকে হারিয়ে তাদেরকে নিয়ে আবার নতুন করে জীবন শুরু করে।
দুই ভাই-বোনকে নিয়ে তাদের দাদার ভাল মন্দে দিন গুলি চলে যাচ্ছিল।কিন্তু সমস্যা হত তাওহীদকে নিয়ে।সে অনেক কাঁদত তার কান্না তারা সহজে থামাতে পারত না।তাদের কথা তেমন মানত না।তারপর ধীরে ধীরে তার দাদার কথা না মানলেও তার বোনের কথা মানতে শুরু করে।কিছুদিন পর তার বোনেই তার কাছে নতুন পৃথিবী হয়ে যায়।
সে হাসলে তার বোন হাসত সে কাঁদলে তার বোন ও কাঁদত দুষ্টামি করলে তার বোন ও তার সাথে দুষ্টামি করত। এভাবেই দিন গুলি চলে যাচ্ছিল। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তার কথা-বার্তা, মান-অভিমান, ঝগড়া-ঝাটি ও বাড়তে থাকে।কিছু হলেই রাগ করত কিছু হলেই অভিমান করত, আর তার বোন রাগ-অভিমান ভাংগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।আবার তার বোন তার সাথে রাগ করলে অভিমান করলে কথা বলা বন্ধ করলে সেও রাগ-অভিমান ভাংগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।এভাবেই সুখে-দুঃখে তাদের দিন গুলি চলে যাচ্ছিল।
•
কিছুদিন আগে তার বোনের জ্বর হয়, বোনের অসুখ ও কষ্ট দেখে তার কি কান্না! একটু পর পর বোনকে বলে জ্বর কমেছে কি না! একটু পর পর বলে কেমন লাগছে ভালো লাগছে কি না! আর সাথে সেবা তো আছেই। কখন কি লাগে কখন কি খাবে কখন কি করবে সব দেখাশুনা সে করে ।
কখন কি বোনের লাগবে তার দাদাকে বলে রাখত সব রেডী করে রাখতে।তখন মনে হয়েছিল সে তাদের বড় আর তারা তার ছোট। নিজের হাতে জলপট্টি দেওয়া নিজের হাতে খাইয়ে দেওয়া আরও কত কি! যখন সে বোনের সেবা করত তখন তার বোন এক দৃষ্টতে তার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর মনে মনে বলতো
এমন একটা ভাই ভাগ্যির গুণে পাওয়া যায়।এমন একটা ভাই না থাকলে ভায়ের আদর ভালবাসা কি জিনিস তা কোনোদিন বুঝা যেতো না।তখন অনুভব করে তার চোখের কোণে পানি জমে আছে।এভাবেই সুখের স্মৃতি গুলো বা দুঃখের স্মৃতি গুলোকে সাথী হিসেবে নিয়ে তাদের দিন চলে যেতে থাকে।
•
তারপর তার বোনকে খাটে বসিয়ে রেখে তার দাদাকে ডাকতে থাকে
- দাদা! ও দাদা! দেখে যাও তোমার আদরের নাতী কি করেছে!
তাদের দাদা যে পাশের রুম থেকে সব দেখেছে সেটা তো তারা জানে না। তাদের দাদা রুমে এসে বলে
- বল দাদু ভাই আমার এই নাতী কি করেছে?
- দেখ আমাকে ধরতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছে।
- তা আমি কি করব? তোমাকে ধরতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছে, এখন তুমিই ব্যবস্থা করবে।আমি পারব না।
- দেখ বেশী ভালো হবে না কিন্তু। যখন একটা কিছু করে বসব; তখন বুঝবে মজা(ভয় দেখিয়ে বলে)
- আচ্ছা বাবা যা ব্যবস্থা করতেছি তবুও ভয় দেখাস না।(কারণ তার রাগ ও অভিমান বেশী আর কখন কি করে বসে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।তাই যা বলেছে তাই করতে চলে যায়)
- এই তো আমার ভালো দাদা ভাই(চোখ টিপি দিয়ে)
ভায়ের কাজ দেখে ও দাদার ভয় দেখে তার

0 comments:
Post a Comment